
দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ: এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দি হলি চাইল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকরা।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নির্ধারিত সময় ছিল গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। বিলম্ব ফিসহ সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হয় ১৭ জানুয়ারি। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে সময়সীমা বাড়িয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেই বর্ধিত সময়সীমাও পেরিয়ে যাওয়ার পর, আজ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, “হলি চাইল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ” অভিভাবকদের কাছ থেকে এসএসসি ফরম পূরণের নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানরা অন্য স্কুলে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় “হলি চাইল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ”-এ ভর্তি করানো হয়। ভর্তি বাবদ ২৬ হাজার টাকা এবং এক মাসের বেতনসহ মোট ৩২ হাজার টাকা নেওয়ার পর এখন আবার পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।
এক অভিভাবক বলেন, আমার পক্ষে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও এত টাকা দেওয়া সম্ভব না।
আরেকজন বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য ১৫ হাজার টাকা দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
এক শিক্ষার্থীর মা জানান, ১৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। আমি ১০ হাজার টাকা দিয়েছি, আরও টাকা দিতে বলছে, কিন্তু এখন আর সামর্থ্য নেই।
অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এস এম আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা ভেবেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। বোর্ডে গিয়ে তদবিরসহ বিভিন্ন খরচের কারণে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুমোদন না থাকায় নবগ্রামের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমীর হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ পৌরসভায় অধিভুক্ত ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এই প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। তারা কীভাবে ফরম পূরণ করছে তা আমাদের জানা নেই। বোর্ড নির্ধারিত ফি ও কেন্দ্র ফি মিলিয়ে তিন হাজার টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এর অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
Leave a Reply