
কাজী জোবায়ের আহমেদ ও সাইফূল ইসলাম.
গুরুতর অসুস্থ মানুষ যখন সুস্থতার আশায় দিন গোনেন, তখন দিশেহারা হয়ে পড়ে তাদের পরিবার। আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি চিকিৎসাসেবার নামে অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এমনই একজন বকুল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ডিএমএফ সনদ না থাকলেও তিনি দোহারের কয়েকটি হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে কাজ করেন।
এমন তথ্য পেয়ে অনুসন্ধানে নামে এশিয়া বার্তার অনুসন্ধানী দল। অনুসন্ধানের শুরুতেই উঠে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনাকাল থেকেই বকুল গড়ে তোলেন অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের একটি সিন্ডিকেট।
যেখানে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো গুরুতর রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ রাখে, সেখানে বকুল গোপনে সরকারি হাসপাতালের পাশেই তার ভাড়া বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রেখে ২৩০০ থেকে ২৭০০ টাকায় ভাড়া দেন । সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংকট দেখা দিলেই সেই সুযোগে প্রায় চার গুণ বেশি দামে অক্সিজেন সরবরাহ করেন বকুল এমন তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।
এশিয়া বার্তার প্রতিবেদক রোগীর স্বজন সেজে অক্সিজেন ভাড়া নিতে গেলে অভিযোগের সত্যতা মিলে। পরদিন প্রতিবেদকরা সরাসরি মুখোমুখি হন বকুলের। ফোনে অক্সিজেন সিলিন্ডার চাওয়া হলে তিনি একটি প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে দ্রুত তার ভাড়া বাসায় চলে আসেন। পরদিন ঠিক একই ভাবে আমরা সিলিন্ডার কিনতে যাই। একটু পর ছদ্মবেশ থেকে বেরিয়ে সরাসরি বক্তব্য জানতে চাইলে বকুল অভিযোগের বিভিন্ন বিষয়ে অকপটে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসুস্থ রোগীদের পরিবারের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ এবং প্রাইভেট ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বকুলের মতো অযোগ্য ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজন ও সচেতন মহল।
Leave a Reply