
২৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কায়কোবাদ-এর ১৬৯তম জন্মজয়ন্তী। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, দিনটি জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আয়োজন ছাড়াই নীরবে ও অবহেলায় পার হয়ে গেছে।
১৮৫৭ সালের এই দিনে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহাকবি কায়কোবাদ। বাংলা সাহিত্যে মুসলমান বাঙালির আত্মপরিচয়, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক অগ্রপথিক। তাঁর অমর কবিতা ‘আযান’ আজও বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতীক।
১৯০৪ সালে প্রকাশিত ‘মহাশশ্মান’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি ‘মহাকবি’ উপাধিতে ভূষিত হন। দীর্ঘ প্রায় ৮২ বছর বাংলা সাহিত্যচর্চায় যুক্ত থেকে তিনি ১৩টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। তবুও তাঁর জন্মজয়ন্তী এভাবে অবহেলায় চলে যাওয়া সাহিত্যপ্রেমীদের হতাশ করেছে।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকার আজিমপুর পুরনো কবরস্থানে কবির সমাধিতে কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, যে জাতি তার গুণীজনদের সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়, সে জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কবির বহু অমূল্য পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আজও গভীর বেদনার।
১৯৫১ সালের ২১ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহাকবি কায়কোবাদ ইন্তেকাল করেন। আজিমপুর পুরনো কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত এই কবি তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে আছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছি?
লেখক: মো সাদের হোসেন বুলু
Leave a Reply